-->
  • Breaking News

    ব্রেকিং নিউজ : অবশেষে সারাদেশে চালু হলো নামজারির স্থায়ী সমাধান!


     ভূমি মালিকানা নিয়ে জটিলতা ও সেবায় দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে অবশেষে সারাদেশে একযোগে চালু হলো স্থায়ী নামজারি (খারিজ) পদ্ধতি। সরকারের নতুন পদক্ষেপে এখন থেকে যে কোনো ভূমি মালিক খুব সহজেই দলিল, ওয়ারিশ বা কোর্ট ডিক্রির ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, নতুন আইন ও নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো আবেদন অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা যাবে না—এতে ভূমি সেবাখাতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো।

    ৩ ধরনের মালিকানাই এখন স্থায়ী নামজারির আওতায়

    বাংলাদেশে বর্তমানে তিন ধরনের মালিকানাই স্বীকৃত—

    1. দলিল সূত্রে মালিকানা

    2. ওয়ারিশ/উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা

    3. কোর্ট ডিক্রি দ্বারা মালিকানা

    এখন থেকে যে কোনো বৈধ মালিকানা পাওয়ার পর নামজারি করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় কেউ জমির “প্রকৃত মালিকানা দাবি” করতে পারবেন না।

    নামজারি না করলে আর রেকর্ড করা যাবে না

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে—এখন থেকে শুধু দলিল দেখিয়ে আর রেকর্ড করা যাবে না। ডিজিটাল সার্ভে (BDS রেকর্ড) চলমান থাকায় সঠিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন—

    • দলিল

    • নামজারি খতিয়ান

    • খাজনার দাখিলা

    এসব নথি ছাড়া নতুন রেকর্ডে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

    নামজারি আবেদন ২৮ কর্মদিবসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করার নির্দেশ

    সরকার নির্দেশ দিয়েছে—

    • নামজারির ফি ১,১৭০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না

    • আবেদন ২৮ কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে

    • অযৌক্তিকভাবে কোনো আবেদন রিজেক্ট করা যাবে না

    • কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকলে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে সমস্যা সমাধানের সুযোগ দিতে হবে

    এতে ভূমি মালিকরা সমস্যার সমাধান করে সহজেই নামজারি সম্পন্ন করতে পারবেন।

    কেন এতদিন আবেদন বাতিল হতো?

    আগে বিভিন্ন কারণে আবেদন বাতিল হতো—

    • দলিলের ভুল তথ্য

    • বিক্রেতার মালিকানা কম/বেশি

    • খাস বা অর্পিত সম্পত্তি জড়িত থাকা

    • কোর্ট ডিক্রির অস্পষ্টতা

    • সীমা-পরিমাপে গরমিল

    এখন এসব ক্ষেত্রে ভূমি মালিককে সহায়তা করে সঠিক পথে আনার দায়িত্ব দেওয়া হলো এসিল্যান্ডদের ওপর।

    এতে অকারণে আবেদন বাতিলের প্রবণতা কমবে এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতাও হ্রাস পাবে।

    নামজারি না করলে সরকারের ক্ষতিই বেশি

    নামজারি না হওয়ায় হাজারো ভূমি মালিক বছরের পর বছর খাজনা জমা দিতে পারে না, ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারায়। তাই এবার সরকার কঠোরভাবে বলেছে—

    • নামজারি ছাড়া কেউ বৈধ মালিকানা দাবি করতে পারবে না

    • ডিজিটাল রেকর্ডে নাম উঠবে শুধু নামজারি করা মালিকের

    এতে জমি-সংক্রান্ত অনিয়ম কমবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে।

    সকল ভূমি মালিকের জন্য শেষবারের মত সতর্কবার্তা

    সরকার জানিয়েছে—

    “এখনই নামজারি না করলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল রেকর্ডে আপনার নাম আর উঠবে না।”

    অর্থাৎ—
    যারা এখনও দলিল করে নামজারি করেননি, বা ওয়ারিশসূত্রে মালিক হয়ে খারিজ নেননি—তাদের জন্য এখনই সুযোগ।

    সংক্ষেপে—এই পাঁচটি কাজ এখনই করুন

    1. দলিল/ওয়ারিশ সনদ/ডিক্রি সংগ্রহ করুন

    2. অনলাইনে বা ইউনিয়ন/উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি আবেদন করুন

    3. সরকারি ফি ১,১৭০ টাকা জমা দিন

    4. ২৮ কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করুন

    5. খাজনা দাখিলা সংগ্রহ করে নিরাপদে সংরক্ষণ করুন

    নামজারি আর জটিল বা ভীতিকর কোনো প্রক্রিয়া নয়। সরকারের নতুন স্থায়ী পদ্ধতি ভূমি সেবাকে সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে বড় ভূমিকা রাখবে। সকল ভূমি মালিককে তাই এখনই নামজারি সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।