অতীতে পাশ্চাত্যের নারীরা মুড সুইং বা বিষণ্নতায় ভুগলে তাদেরকে স্বামীরা চিকিৎসকের কাছে....See more
অতীতে পাশ্চাত্যের নারীরা মুড সুইং বা বিষণ্নতায় ভুগলে তাদেরকে স্বামীরা চিকিৎসকের কাছে
অতীতে পাশ্চাত্যের নারীরা মুড সুইং বা বিষণ্নতায় ভুগলে তাদেরকে স্বামীরা চিকিৎসকের কাছে অতীতে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে কোনো নারী যদি বিষণ্নতা, মুড সুইং বা উদ্বেগে ভুগতেন, তবে সেই অবস্থাকে চিকিৎসকরা 'ফিমেল হিস্টেরিয়া' (Female Hysteria) নামক একটি রোগ হিসেবে চিহ্নিত করতেন [১.৩.১, ১.৩.৩]। সেই সময়ে নারীদের এই মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে চিকিৎসকরা বেশ কিছু বিতর্কিত ও অদ্ভুত চিকিৎসার পরামর্শ দিতেন:
পেলভিক মাসাজ (Pelvic Massage): হিস্টেরিয়ার অন্যতম সাধারণ চিকিৎসা ছিল চিকিৎসকের মাধ্যমে 'পেলভিক মাসাজ' দেওয়া, যার মূল লক্ষ্য ছিল রোগীকে একটি চরম উত্তেজনায় (অর্গাজম) পৌঁছানো [১.৩.৩, ১.৩.৬]। চিকিৎসকরা মনে করতেন, এতে শরীরের 'ভারসাম্যহীন তরল' নির্গত হবে এবং নারী শান্ত হবেন [১.৩.৫, ১.৪.২]।
ভিব্রেটর বা কম্পন যন্ত্রের উদ্ভাবন: চিকিৎসকরা এই মাসাজ দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়তেন বলে পরবর্তীতে চিকিৎসাকাজে ব্যবহারের জন্য বৈদ্যুতিক ভিব্রেটর উদ্ভাবন করা হয় [১.৩.৬, ১.৪.৫]। অনেক ধনী পরিবারে নারীরা ঘরেও এই যন্ত্র রাখবিশ্রাম চিকিৎসা (The Rest Cure): অনেক সময় নারীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বিশ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হতো [১.৪.৬]। এতে রোগীকে কোনো ধরনের পড়ালেখা, কাজ বা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করতে দেওয়া হতো না, যা অনেক সময় রোগীর মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলত [১.৪.৬]।
বিয়ে ও সন্তান ধারণ: অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা প্রায়ই বিয়ে করা এবং সন্তান ধারণ করার পরামর্শ দিতেন, কারণ তৎকালীন বিশ্বাস ছিল যে জরায়ুর 'সঠিক ব্যবহার' না হওয়া থেকেই এসব সমস্যার সৃষ্টি হয় [১.৩.১,জরায়ু অপারেশন ও মানসিক হাসপাতাল: পরিস্থিতি গুরুতর মনে করলে চিকিৎসকরা অনেক সময় জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া (Hysterectomy) বা জোরপূর্বক মানসিক হাসপাতালে (Psych Ward) ভর্তি করানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতেন [১.১.৯, ১.৪.৩]।
ভিক্টোরিয়ান যুগে নারীদের স্বাধীন চিন্তা বা অবদমিত ইচ্ছাকে 'পাগলামি' বা রোগ হিসেবে দেখার এক অন্ধকার ইতিহাস ছিল এটি [১.৩.৪, ১.৪.৪]। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'ফিমেল হিস্টেরিয়া' বলে কোনো রোগের অস্তিত্ব নেই এবং ১৯৮০ সালে এটি রোগতত্ত্বের তালিকা থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হয় [১.৩.৪ ১.৩.৫]।তেন [১.৩.৩]।
