-->
  • Breaking News

    পে-স্কেল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের


     বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা শুরুর পর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে।


    এরই মধ্যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে গেছে। ফলে আর্থিক চাপে পড়ে সরকার নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে।

    এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


    তবে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও প্রথম অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে আজ।


    জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জরুরি খাতে ব্যয় হওয়ায় এর প্রায় পুরো অর্থ ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেছে।


    অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী—২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে জ্বালানি খাতের ভর্তুকিতে, ১৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে কৃষকদের ঋণ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে, ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত তহবিলের ৩৯ হাজার ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, ফলে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৯৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় প্রয়োজন এমন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ সরকারের আর্থিক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলছে।


    প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী—সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা; মোট গ্রেড ২০টি; সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ (আগে ছিল ১:৯.৪); বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।


    গত বছরের ২৭ জুলাই নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এর প্রধান করা হয় সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে।

    কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল এবং তারা চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেয়।


    সরকারি কর্মচারীরা নতুন পে স্কেল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও তারা আশা করছেন, অন্তত আংশিক সমন্বয় করা হলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আপাতত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।


    সূত্র: কালের কণ্ঠ