পবিত্র শবে কদরের রাতে স্বামী স্ত্রী স.হবাস করলে কি হয় গুনাহ হবে : ইসলামের স্পষ্ট বিধান
প্রথম কথা:
যদি স্ত্রী হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় থাকেন, তাহলে স'হবাস জায়েজ নয়। সে ক্ষেত্রে গুনাহ হবে।
দ্বিতীয় কথা:
যদি কেউ ইতিকাফে থাকে, তাহলে ইতিকাফ অবস্থায় স'হবাস করা নিষিদ্ধ। এতে গুনাহ হবে এবং ইতিকাফও নষ্ট হয়ে যাবে।
তৃতীয় কথা:
স'হবাস যদি ফজরের আগে হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হয় না। কিন্তু ফজরের সময় শুরু হয়ে যাওয়ার পরও যদি সহবাস চলতে থাকে, তাহলে রোজা নষ্ট হবে এবং গুনাহও হবে। তাই সময়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।
চতুর্থ কথা:
সহবাসের পর ফরজ গোসল করতে হবে। গোসল ছাড়া নামাজ পড়া যাবে না। তবে যদি সহবাস রাতের শেষভাগে হয় এবং ফজর হয়ে যায়, তাহলে আগে গোসল করে তারপর ফজরের নামাজ পড়তে হবে। শুধু জুনুবি অবস্থায় সকাল হওয়া দ্বারা রোজা নষ্ট হয় না, কিন্তু নামাজ দেরি করা যাবে না।
এখন শবে কদরের রাতের বিশেষ দিকটা বুঝি।
শবে কদর এমন একটি রাত, যে রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাই এ রাতে মুসলমানরা সাধারণত বেশি বেশি নফল নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, ইস্তিগফার ইত্যাদিতে সময় দেন। এই দিক থেকে বলা যায়, স্বামী-স্ত্রীর সহবাস গুনাহ না হলেও, যদি এর কারণে মানুষ ইবাদত থেকে উদাসীন হয়ে পড়ে বা পুরো রাতের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই উত্তম কাজ হবে না। অর্থাৎ বিষয়টি হারাম বনাম হালাল এক দিক, আর উত্তম বনাম কম উত্তম আরেক দিক।
সহজ ভাষায়:
সহবাস করা বৈধ
এ কারণে গুনাহ হবে না
কিন্তু শবে কদরের রাত ইবাদতে কাটানো বেশি উত্তম
সহবাসের পর গোসল করে ইবাদত করলে অসুবিধা নেই
আরেকটি ভারসাম্যপূর্ণ কথা হলো, ইসলামে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কও ইবাদতের অংশ হতে পারে, যদি তা হালালভাবে হয় এবং এর মধ্যে পাপ না থাকে। তাই কেউ যদি স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন অনুযায়ী সহবাস করে, তাকে শুধু এজন্য পাপী বলা ঠিক হবে না। তবে শবে কদরের মর্যাদার কথা চিন্তা করে এ রাতে যতটা সম্ভব ইবাদতে সময় দেওয়া ভালো।
সারকথা:
শবে কদরের রাতে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করলে সরাসরি গুনাহ হয় না, যদি তা বৈধ সময় ও বৈধ অবস্থায় হয়। তবে যেহেতু এটি অত্যন্ত বরকতময় রাত, তাই ইবাদতে বেশি সময় ব্যয় করাই উত্তম। সহবাস হয়ে গেলে গোসল করে নামাজ ও ইবাদত করা উচিত।
চাইলে আমি এটা কুরআন-হাদিসের আলোকে আরও দলিলসহ বুঝিয়ে দিতে পারি।
