-->
  • Breaking News

    চুপিসারে লিভার ন'ষ্ট করে দেয় এই বিরল রোগ, ক্ষতি করে কিডনিরও


     শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ লিভার। এটি একবার খারাপ হতে শুরু করলে পুরোপুরি ঠিক করা কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা লিভারসংক্রান্ত বেশিরভাগ রোগই সহজে ভালো হতে চায় না। বরং দীর্ঘদিন ধরে কুড়ে কুড়ে নিঃশেষ করতে থাকে লিভারকে। শেষ পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপন ব্যতীত আর কোনো গতি থাকে না। 

    লিভারের একটি বিরল রোগ ‘মেটাবলিক ডিজফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্ট্যাটোটিক লিভার ডিজিজ’ বা এমএএসএলডি। কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ না করেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। বছরের পর বছর উপসর্গহীন ভাবে থেকে এটি ক্ষতি করে যায়। কেবল লিভার নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোরও ক্ষতি করে এটি। বিশেষত কিডনির ক্রনিক অসুখের কারণও হয়ে উঠতে পারে।

    ফ্যাটি লিভার থেকেও বেশি ক্ষতিকর 

    লিভারের পরতে পরতে চর্বি জমলে এই রোগ হয়। চিকিৎসকদের মতে, লিভারে যদি ১০ শতাংশের বেশি মেদ জমে, তখন তা ধীরে ধীরে স্ট্যাটোটিক রোগের দিকে বাঁক নেয়। ফ্যাটি লিভারেরই একটি ধরন এটি, তবে ফল তার চেয়েও মারাত্মক। 

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, লিভারের ক্ষতি হলে তা সারা শরীরে প্রভাব ফেলে। এমনও দেখা গেছে, ক্রনিক লিভারের রোগ থেকে কিডনি ফেলিওয়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ফ্যাটি লিভারের অসুখ থেকে লিভার সিরোসিস হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

    বিরল এই রোগটি কেন হয়? 

    ফ্যাটি লিভার দু’রকম হয়। অ্যালকোহলিক ও নন অ্যালকোহলিক। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভারে চর্বি জমলে তা অ্যালকোহলিক ফ্যাট। অন্যদিকে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত, তেল, ফ্যাট জাতীয় উপাদান বেড়ে গেলে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হয়। এমএএসএলডি একটি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের রোগ। অর্থাৎ মদ্যপানের কারণে নয়, হজমপ্রক্রিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গোলমালের কারণে এই বিরল রোগটি হয়।

    চিকিৎসকদের মতে, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট জমতে শুরু করলে অঙ্গটি তার নিজস্ব কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। শরীরে জমা দূষিত পদার্থ বা ‘টক্সিন’ থেকে লিভার নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে না। রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে সেই দূষিত পদার্থ পৌঁছে যায় অন্ত্রে। প্রাথমিকভাবে সেখান থেকেই প্রদাহ শুরু হয়। এই রোগটির আক্রমণ এতই নিঃশব্দে ও ধীরে ধীরে হয় যে ধরা পড়ার আগেই শরীরের ভিতরে তা অনেকটা ক্ষতি করে ফেলে। এই ধরনের ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস, হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

    কিডনির কতটা ক্ষতি হয়? 

    লিভারের রোগ হলে কমে যায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তখন অন্য অঙ্গগুলোও ভুগতে শুরু করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় কিডনির। এই বিষয়ে নেফ্রোলজিস্টের বক্তব্য, ‘ক্রনিক লিভারের রোগ হলে তার থেকে অ্যাকিউট কিডনি ফেলিওয়র হতে পারে। তলপেটে ব্যথা, যন্ত্রণা, প্রদাহ, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে লিভার যদি একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে। এরপরে কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা ভাবতে হবে। 

    লিভারের রোগ যদি মারাত্মক আকার নেয়, তাহলে তা থেকে ‘হেপাটোরেনাল সিনড্রোম’ নামে কিডনির রোগ হয়। এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। রোগীর অবস্থা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে তখন লিভার বা কিডনি কোনো কিছুই আর প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয় না। 

    রোগ শনাক্ত করার উপায় কী?

    লিভারে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে ‘লিভার ফাংশন টেস্ট’ (এলএফটি) করতে হয়। এছাড়া সিটি স্ক্যান, লিভার আলট্রাসাউন্ড, এমআরআই স্ক্যান করে লিভারের অবস্থা বোঝা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে লিভার বায়োপসি করেও দেখা হয়।

    লিভার ভালো রাখার উপায় 

    লিভার সুস্থ রাখতে সঠিক জীবনযাপনের বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, অসুখ সারাতে প্রয়োজনীয় শরীরচর্চা যেমন দরকার, তেমন ডায়েটে পরিবর্তনও ভীষণ জরুরি। এর মানে এই নয় যে, যে ব্যক্তি স্বাস্থ্যবান তিনি চিকন হয়ে গেলেই ফ্যাটি লিভার ঠিক হয়ে যাবে। ওজন কমানোর ডায়েট আর ফ্যাটি লিভার সারানোর ডায়েট সম্পূর্ণ আলাদা।

    মদ্যপানের অভ্যাসের কারণে হোক বা না হোক, যকৃত বা লিভারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চর্বি জমলে এই অভ্যাসটি একেবারেই ছাড়তে হবে। সেসঙ্গে কমাতে হবে চিনি খাওয়ার পরিমাণ। কৃত্রিম চিনিও খাওয়া চলবে না। ভাজাভুজি, অতিরিক্ত লবণ মেশানো খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া ছাড়তে হবে। তার সঙ্গে শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।