-->
  • Breaking News

    চোখের পাতা লাফায় কেন? এটা কি কোনো রোগের লক্ষণ?


     চোখের পাতা কাঁপা সাধারণত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা। এটি প্রায়ই ঘটে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি ক্ষণস্থায়ী এবং ক্ষতিকারক নয়। তবে কখনো কখনো চোখের পাতা কাঁপা কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

    চোখের পাতা কাঁপার কারণ
    ক্লান্তি ও চোখের পরিশ্রম
    যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয় বা শরীর অত্যন্ত ক্লান্ত থাকে, তবে চোখের পাতা কাঁপতে পারে।

    দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার, মোবাইল বা টিভির সামনে বসে থাকাও চোখের পেশিকে ক্লান্ত করে তোলে।
    যারা দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ‘আই ফ্যাটিগ’ হতে পারে, যার ফলে চোখের পাতা কাঁপা একটি প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

    ডায়েট এবং লাইফস্টাইল
    অতিরিক্ত কফি, চা, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি আমাদের নার্ভ সিস্টেমের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এর ফলে চোখের পাতার অকারণ কাঁপুনি দেখা দিতে পারে।

    ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
    কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, যেমন মাইগ্রেনের ওষুধ বা নার্ভের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চোখের পাতা কাঁপতে পারে। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

    চোখের অভ্যন্তরীণ সমস্যা
    চোখের ভেতরের কনজাংটিভায় পাথরের মতো পদার্থ জমা হলে বা মেইবোনিয়ান গ্ল্যান্ড ডিসফাংশন হলে চোখের পাতা কাঁপতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্সের অপ্রশস্ত ব্যবহারও এমন সমস্যার কারণ হতে পারে।

    স্নায়বিক  সমস্যা
    কিছু স্নায়বিক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে চোখের পাতা কাঁপা দেখা যেতে পারে। যেমন- মাল্টিপল স্কলেরোসিস বা হেমি ফেসিয়াল স্পাসম।

    শিশুদের ক্ষেত্রে
    ছোট শিশুদের মধ্যে চোখের পাতা কাঁপা মার্কাস গান জও উইংকিং সিনড্রোমের উপসর্গ হতে পারে। তবে এটি দৈনন্দিন জীবনে কোনো বড় অসুবিধার কারণ নয়।

    করণীয়

    • সাধারণত পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে চোখের পাতা কাঁপা নিজে থেকেই চলে যায়।
    এই সময়ের মধ্যে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। চোখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধোয়া, হালকা গরম সেঁক দেওয়া বা টিয়ার ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • মেডিটেশন বা ধ্যানও স্ট্রেস কমাতে এবং চোখের পাতা কাঁপা বন্ধ করতে সাহায্য করতে পারে।
  • অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারে সাবধান থাকা উচিত এবং কোনো প্রকার নার্ভের ওষুধ নিজে থেকে না খাওয়াই ভালো।
  • কখন ডাক্তার দেখাবেন?

    • যদি চোখে খচখচ, জ্বালা, জল পড়া বা ব্যথা হয়।
    • যদি পাঁচ-সাত দিনেও চোখের পাতা কাঁপা থামে না।
    • যদি মুখ বেঁকে যায় বা মুখের পেশিতে অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা দেয়।
    • যদি চোখের পাতা খুলে রাখা যায় না।
    • ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    চোখের পাতা কাঁপার সমস্যা সাধারণত ক্ষণস্থায়ী এবং নির্দিষ্ট কারণ ব্যতীত চিন্তার বিষয় নয়। তবে এটি যদি নিয়মিত বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    সূত্র : হেলথ টুডে